--রাত দু'টোর সময় বাসায় ফিরছিলাম।হটাৎ এই দেখি,একটা লোক আমার বাসা থেকে বের হচ্ছে।পড়নে আন্ডারওয়্যার,শার্ট কাধে ঝুলিয়ে রেখেছে।দেখেই মাথা হ্যাং হয়ে গেলো!কে এই লোক!আর এত রাতে আমার বাসা থেকে বের হচ্ছে!কাহিনী তো কিছু বুঝলাম না!
গাড়ি সাইড করে লোকটার কাছে এগিয়ে গেলাম।গাড়ি থেকে নামতে নামতেই লোকটা উধাও হয়ে গেলো!অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম।কিন্তু লোকটাকে আর পেলাম না।মাথায় তো কিছুই খেলছে না।কি হচ্ছে টা কি!রাতের বাজে দুইটা।সাজিয়া বাসায় একা।তার উপরে আমার বাসা থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় অচেনা একটা লোক বেরিয়ে যাচ্ছে।যাকে এর আগে আমি কখনোই দেখি নি!তার মানে কি সাজিয়া আমায় ঠকাচ্ছে!নাহ,ওকে গিয়ে জিগ্যেস করি।
বাসার ভিতরে ঢুকে পড়লাম।বাসায় ঢুকে আরো বড় ধরনের একটা শকট খেলাম!সাজিয়া শরীরের কাপড় ঠিক করছে!
সাজিয়া কে এসেছিলো বাসায়?আর তোমার শরীরের এই অবস্থা কেনো?
--কই কেউ তো আসেনি।আর আমি তো মাত্র গোসল করে আসলাম।তাই কাপড় চেঞ্জ করছি।
--সাজিয়া গোসল করে এসেছে।সেটা শুনে সন্দেহের মাত্রাটা আরো বেড়ে গেলো।মিথ্যে বলছো আমায়?আমি তো নিজের চোখে দেখেছি।যে একটা লোক অর্ধনগ্ন অবস্থায় বাসা থেকে বের হচ্ছে।
--কি,কি, কি বলছো এসব তুমি?
তুমি কি আজও ড্রিংক করেছো?
--যা বলছি সত্যি বলছি।আর তুমি আমাকে প্রশ্ন বোধক চিহ্নে আটকে দিয়ে আসল টপিক টা ঘুরাতে চাইছো?
--আকাশ,কি সব বলছো তুমি উল্টা-পাল্টা!
আমার তো কিছুই মাথায় ঢুকছে না।পাগল হয়ে গেলে নাকি তুমি?
--সাজিয়া,আমি পাগল কি ভালো মানুষ,সেটা তোমার থেকে ভালো কেউ জানে না।আর আমাকে পাগল বলে কথার মারপেঁচ আরো গিট্টু লাগছে।আমি কিন্তু পাগল নই।আর পাগল হলেও সেন্স ঠিক আছে আমার।সব কিছুই নিজের চোখে দেখেছি আমি।তা না হয় তোমাকে এসব বলার কোনো মানেই হয় না।
--তোমাকে আমার আর কিছু বলার নেই।
আমি জানি না,তুমি কাকে দেখেছো।তবে তুমি যেটা মিন করতে চাইছো।সেরকম আমি কিছুই করিনি।
--ওকেহ,যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
সাজিয়া ঘুমোতে চলে গেলো।আমি জানি,সাজিয়া মিথ্যে বলছে আমায়।ঐ লোকটা বাসা থেকেই বের হয়েছে।আর তার উপরে সাজিয়ার গোসল।আন্দাজ করতে পারছি আমি কিছুটা।আমি হয়তো সাজিয়াকে সুখ দিতে পারি না।তাই সে অন্য লোকের সাথে...
বুক ফেটে কান্না আসছে!এত কষ্ট কার জন্য করি আমি।সারাদিন রাত মেহনত করি।নিজের প্রতিষ্ঠান কি ভাবে দাঁড় করাবো,সেটা নিয়েই পড়ে থাকি সারাদিন।
যেনো ভালো একটা অবস্থানে যেতে পারি।সাজিয়াকে নিয়ে সুখে থাকতে পারি।কিন্তু সাজিয়া অন্য লোকের সাথে...ছিহ,আমার ভাবতেও ঘৃণা হচ্ছে।চুরি করে আবার আমার মুখের উপরে কথা বলছে।যে সে চুরি করে নাই।যাকে নিয়ে সুখে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।সে অন্যকে নিয়ে বিলাসিতায় মগ্ন।কিছুই বললাম না আর ওকে।
কোনো কথা না বলে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
--এই কি হলো?খাট রেখে সোফায় শুলে যে?
--এমনি শুয়েছি।তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
--না,এমনি না।তুমি খাটে আসো।সোফায় ঘুমাতে হবেনা তোমার।
--ওকেহ আসছি।সাইডে চাপো তুমি।
যদিও সাজিয়াকে দেখে ঘৃণা লাগছে।কিন্তু নিজেকে তো কষ্ট দিব না।সারাদিন খাটাখাটুনি করে এসে সোফায় ঘুমাবো কেনো।বিছানায় এই ঘুমাবো।
বিছানায় গিয়ে শুতেই সাজিয়া আমায় জড়িয়ে ধরলো।
সাজিয়ার শরীর থেকে অপরিচিত একটা ঘ্রাণ নাকে ভেসে আসলো!তার মানে আমি পুরোপুরি শিউর হতে পারি,যে সাজিয়া খারাপ কিছুতে লিপ্ত হয়েছে।না,হয় ওর শরীর থেকে এমনধারা ঘ্রাণ আসার তো কথা না।
আমি তো ওকে এমন ধরনের কোনো পারফিউম কিনে দেই নি।তাহলে অচেনা পারফিউমের ঘ্রাণ ওর শরীরে আসলো কি করে!ঘৃণার মাত্রা আরো বেড়ে গেলো।সাথে সাথে সাজিয়ার হাত গা থেকে ঝাটকা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে ওর গলা চিপে ধরলাম।
এই সত্যি করে বল,কার সাথে বিছানা শেয়ার করেছিস তুই?
--প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও আকাশ।আমার খুব লাগছে।
--লাগুক,তোর খুব।লাগার জন্যই তো তোর গলা চেপে ধরেছি।বল কার সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিস?
--আমি কারোর সাথেই কিছু করিনি।তুমি শুধু শুধু আমায় খারাপ অপবাদ দিচ্ছো।
--মেজাজটা এবার আরো বিগড়ে গেলো সাজিয়ার কথা শুনে।গলা ছেড়ে দিয়ে,ঠাসসসসস করে কোষে দুইটা লাগিয়ে দিলাম।আজকের পর আমার ধারেকাছেও আর ঘেসবি না।বেশি কিছু আর বললাম না তোকে।তোকে দেখলেই আমার রাগ উঠছে।যা,বিছানা থেকে উঠে অন্য রুমে গিয়ে ঘুমা।
--উঠে চলে এলাম অন্য রুমে।
কিছু বলার নেই আর।তবে এটুকুই বলবো।মানুষটার বদ আচরণে মানুষটা আমার মন থেকে সরে যাচ্ছে।অন্যরুমে এসে শুয়ে আছি।
অন্যদিকে আকাশ শুয়ে শুয়ে চোখের জ্বল ঝড়াচ্ছে!
--কি ভাবলাম আর কি হলো!ভালোবেসে যাকে ছয়মাস আগে বিয়ে করেছিলাম।সে আজ অন্যের সাথে রং তামাশা করে।আমার খাটাখাটুনি গুলোর দাম তার কাছে নেই।সে মনে করে,আমি তার থেকে দূরে দূরে ভাগছি।সমস্যা নেই,আমি দূরে দূরে ভাগলে ভাগছি।
আমার মাকাম আমি হাসিল করে তাকে জুদা করে দিব।করুক সে তার রং তামাশা।তবে তার আগে আমাকে আরো শিউর হতে হবে।সমস্ত সিমটম তো আমি যা ভাবছি,সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।বাকি পুরোপুরি পাকাপোক্ত ভাবে শিউর হয়ে নেই।তারপর কোনো একটা স্টেপ নিব আমি।কাল আমি তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরবো।দেখবো লোকটা কি কালকেও আসে কিনা।ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল বেলা...
সাজিয়ার ডাকে ঘুম ভাংলো।
--তোমার অফিসে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।টেবিলে নাস্তা রেডি করে রেখেছি।উঠে খেয়ে নাও।
--উঠে গিয়ে রেডি হয়ে নিলাম।পরে নাস্তা করে রেডি হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি।মাথায় খালি কালকের বিষয়টাই ঘুরপাক খাচ্ছে!অফিস শেষ করে ছয়টার সময় বাসায় চলে এলাম।সাজিয়া ও আমায় দেখে অবাক!
--আজ এত তাড়াতাড়ি চলে এলে যে?
--সেটা তোমার না জানলেও চলবে।
--আচ্ছা জানাতে হবে না।
তবে টেবিলে নাস্তা লাগাচ্ছি,তুমি ফ্রেয় হয়ে খেয়ে নিও।
--কোনো কথাই বললাম না।চুপচাপ ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেয়ে নিলাম।নাস্তা খেয়ে রুমে বসে আছি।
সাজিয়া বারবার আমার সামনে ঘুরাফেরা করছে।হয়তো কিছু একটা বলতে চায়।চেহারা দেখে বুঝাই যাচ্ছে,কোনো কিছু একটা নিয়ে টেনশন করছে।হয়তো বা আমি,আজ তাড়াতাড়ি আসায় তার আসিকের সাথে সময় কাটাতে পারবে না।হটাৎ এই মাথায় একটা প্লান আসলো।আজ ওদেরকে ধরবো।কিন্তু বাসায় থাকলে তো তাঁদেরকে ধরতে পারবো না।আমি আছি জানলে হয়তো সেই অপরিচিত লোকটা বাসায় আসবে না।
অফিসের ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে নিলাম।
--এই তুমি কোথায় যাচ্ছো?
--অফিসে যেতে হবে এখনি।কাজ কিছু বাকি আছে।সেটা শেষ করে রাতে আসবো।
--কিহহ,সত্যি বলছো তুমি রাতে আসবা?
--খুশি হচ্ছো মনে হয়?
--নাহ,খুশি হবো কেনো,এমনি বললাম আরকি।
--হা রাতেই ফিরবো।
--সাবধানে যেও।
--সে আমায় একবারো জিগ্যেস করলো না,যে একবার অফিস থেকে আসার পর আবার কিসের কাজে যাচ্ছি।
ধুর,কার থেকে কি হোপ করছি।আমি থাকলে তো তার এই সমস্যা।বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম।আজ সারারাত ঘরের আসেপাশে পাহারা দিব।কোনো অফিস টফিসে যাবো না।সাজিয়াকে মিথ্যে বলেছি যে অফিসে যাবো।আসল কথা তো আজ আমি ওদের হাতে নাতে ধরলো।রাত বারোটা পর্যন্ত এভাবে ঘুরাফেরা করলাম বাড়ির আসেপাশে।কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলাম না।
বাসায় এসে পড়লাম।আজ হয়তো চোর সচেতনতা দেখিয়েছে।সমস্যা নাই বাছাধন।কতদিন তোমার সচেতনতা থাকে,সেটাই দেখবো আমি।বাসায় এসে ফ্রিজ থেকে ড্রিংকের বোতল টা বের করে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।ড্রিংক না করলে মাথাটা কেমন যেনো জ্যাম হয়ে থাকে।সারাদিন কাজের চাপে মাথাটা পুরো আউলা ঝাউলা হয়ে যায়।
সাজিয়া অন্যরুমে শুয়েছে।কাল তাকে আকাশ মানা করেছে,যে আকাশের সাথে না ঘুমাতে।তাই আজো সে অম্যরুমে ঘুমিয়েছে।
হটাৎ এই মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় পানির শব্দে।এত রাতে পানির আওয়াজ কোথা থেকে আসছে!নাহ উঠে গিয়ে দেখি।রুমে ছেড়ে বের হয়ে আসলাম।খোঁজ করতে লাগলাম,কোথা থেকে ঝুম ঝুম পানির আওয়াজ আসছে।ওয়াশরুমের সামনে যেতেই দেখি সাজিয়া গুনগুন করে গান করছে।বাহির থেকে স্পষ্ট তা শুনা যাচ্ছে।সাজিয়া কি করছো তুমি?
--গোসল করছি।
--আর কিছু বললাম না।চুপচাপ চলে আসতে ধরলাম।তখনি নজর পড়লো ঘরের মেইন দরজার দিকে,দরজা খোলা।এত রাতে দরজা খোলা কেনো!লোকটা কি এসেছিলো নাকি!তাড়াতাড়ি করে দরজার সামনে গেলাম।গিয়ে আসপাশে ভালো করে চোখ পাকিয়ে দেখছি,যে কেউ আছে কিনা।তখনি দেখতে পেলাম,বাড়ির গেইট খুলে কালকের সেই লোকটা বেরিয়ে যাচ্ছে!এটা দেখেই তো চোখ কপালে উঠে গেলো!কালকে তো তাও ভালোই ছিলো।আজকে আরো বিদঘুটে লাগছিলো লোক টাকে।আজো সেই আন্ডারওয়্যার।তবে শরীরে কিছু নেই।মাথায় পাগড়ির মত করে কিছু একটা পেঁচিয়ে রেখেছে।পায়ের নিচ থেকে যেনো মাটি সরে গেছে আমার!সাজিয়া আমি বাসায় উপস্থিত থাকা সত্বেও অন্য পুরুষ এনেছে.....
চলবে...?
গল্প_এক_ধোঁয়াশা_মানব
পর্বঃ১
এক ধোঁয়াশা মানব সকল পর্বের লিংক নিচে 👇

0 মন্তব্যসমূহ